সারা বাংলা

নদীতে রহস্যময় দুই মরদেহ

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় এক দিনের ব্যবধানে দুটি ভিন্ন নদী—কাজলা ও মেঘনা—থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারী ও এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্য। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে দুটি লাশ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ ও থানা পুলিশ। মৃত্যুর প্রকৃতি, দেহের অবস্থা ও ঘটনাস্থলের দূরত্ব—সবকিছু মিলিয়ে ঘটনার নেপথ্যে কোনো বড় রহস্য অথবা অপরাধের ইঙ্গিত আছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে বাউশিয়া ইউনিয়নের মধ্য বাউশিয়া (দাসপাড়া) এলাকার কাজলা নদীর পাড়ে স্থানীয়রা প্রথম মরদেহটি দেখতে পান। স্রোতের ধাক্কায় আধভেজা কাদায় আটকে থাকা লাশটির দুই পা রশি দিয়ে বাঁধা ছিল—যা স্থানীয়দের মনে আরও শঙ্কা তৈরি করেছে। শারীরিক গঠন দেখে ধারণা করা হচ্ছে মৃত ব্যক্তির বয়স ৩৫ বছরের কাছাকাছি। পোশাক-পরিচ্ছদ সনাক্তযোগ্য অবস্থায় না থাকায় পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
দেখতে আসা স্থানীয়রা জানান, নদীতে লাশ ভেসে আসা অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু হাত–পা বাঁধা অবস্থায় কাউকে পাওয়া নেহাতই অন্যরকম ইঙ্গিত দেয়। তারা ধারণা করছেন এটি হয়ত হত্যাকাণ্ডের শিকার কোনো ব্যক্তি, যাকে গভীর রাতে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

েঘনায় অর্ধগলিত নারীর মরদেহ , মৃত্যু ৪–৫ দিন আগেই
এর ঘণ্টাখানেক পর খবর আসে হোসেন্দী ইউনিয়নের ডোবাচর সংলগ্ন মেঘনা নদীতে আরেকটি মরদেহ ভেসে থাকার। স্থানীয় জেলেরা প্রথম মরদেহটি দেখতে পান এবং নৌ-পুলিশকে খবর দেন। পাওয়া যায় প্রায় অর্ধগলিত এক নারীর দেহ। মৃত্যুর সময় অনুমান করা হচ্ছে ৪–৫ দিন আগে। বয়স ৩০–৩২ বছরের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
নারীর দেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট না থাকলেও মরদেহ গলিত অবস্থা মৃত্যুর প্রকৃতি নির্ধারণকে কঠিন করে তুলেছে। এলাকাবাসীর ধারণা, ভাটার স্রোতে দূরবর্তী কোনো স্থান থেকে মরদেহটি ভেসে আসতে পারে।
দুই মরদেহ—এক দিনে—দুই নদী: পুলিশের নজর এখন সংযোগসূত্রে
ঘটনায় প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। শনিবার দুপুরের সময় দুটিতে দুইটি মরদেহ পাওয়া এবং বয়সের মিল বিশেষ করে পুলিশের নজর কেড়েছে।
গজারিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সাব্বির হোসেন জানান, “দুই ক্ষেত্রেই নদীতে লাশ পাওয়া গেছে। মৃত্যুর কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। নৌ–পুলিশ এ বিষয়টি তদারকি করছে। পরিচয় শনাক্তে আমরা কাজ করছি।”

গজারিয়া নৌ–পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শরজিৎ কুমার ঘোষ বলেন, “মেঘনা নদী থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছি। কাজলা নদীতে পাওয়া পুরুষের মরদেহ দেখতে দল পাঠানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কারও পরিচয় পাওয়া যায়নি।”
পরিচয়হীন মরদেহ দুটির পেছনে কী গল্প?
স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন— এ কি কেবলই নদীর দুর্ঘটনা—না কি জোড়া হত্যাকাণ্ড? দুটি নদীর দূরত্ব কম, সময় প্রায় একই, উভয়েই যুবক-যুবতী বয়সী—এমন মিলগুলো তদন্তকারীদের নতুন করে ভাবাচ্ছে।
পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ প্রোফাইলিং ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। লাশ দুটির সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
এই দুই লাশ উদ্ধারের ঘটনায় শঙ্কা এবং নানা প্রশ্নে মুখর স্থানীয় জনপদ। তদন্তের অগ্রগতি ও পরিচয় প্রকাশের ওপরই এখন নির্ভর করছে ঘটনার প্রকৃত চিত্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles

Back to top button