রাজনীতি

খালেদা জিয়ার আশির্বাদে মনোনয়ন পেয়েছি – রতন

Shottoprokash
সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন কামরুজ্জামান রতন – সত্য প্রকাশ

রাজনীতির মঞ্চে যখন পরিবর্তনের হাওয়া, তখনই মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চূড়ান্ত মনোনয়নের আলোকবর্তিকা হাতে নিলেন কামরুজ্জামান রতন। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে যখন তিনি প্রথমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি, তখন তাঁর চোখে ছিল অদম্য প্রত্যয় আর হৃদয়ে ছিল এক গভীর কৃতজ্ঞতার সুর।
​শনিবার নিজ বাসভবনের শান্ত প্রাঙ্গণে, এক আলাপচারিতায় তিনি যেন তাঁর রাজনৈতিক জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের মলাট উন্মোচন করলেন।
​ বিশ্বাসের ভিত্তি: খালেদা জিয়ার আশীর্বাদ
​মনোনয়ন লাভের এই মহামূল্যবান ক্ষণটির নেপথ্যের কথা বলতে গিয়ে কামরুজ্জামান রতন আবেগময় হয়ে ওঠেন। তিনি জানান, এই মনোনয়ন শুধু দলীয় সিদ্ধান্ত নয়, এটি যেন দলের দুর্গম পথের কাণ্ডারি বেগম খালেদা জিয়ার এক বিশেষ আশীর্বাদ।
​”বহু আগেই জননী বেগম খালেদা জিয়া মনোনয়নের তালিকায় আমার নাম লিপিবদ্ধ করতে বলেছিলেন। তাঁর সেই নিঃশর্ত ইচ্ছাই যেন আজ বাস্তবে রূপ পেল তারেক রহমানের মাধ্যমে।”
​তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উচ্চারণ করেন, তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পথচলার অটল সততা ও আদর্শের প্রতি নিষ্ঠাই এই আস্থার ভিত্তি স্থাপন করেছে। তাঁর এই মনোনয়ন যেন ক্ষমতা নয়, বরং নৈতিকতার এক অর্ঘ্য, যা দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁর হাতে তুলে দিয়েছেন।

ঐক্যের আহ্বান: ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে
​মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের রাজনীতিতে যে দলীয় বিভাজনের দীর্ঘ ছায়া রয়েছে, সে প্রসঙ্গে কামরুজ্জামান রতন ছিলেন অত্যন্ত সংবেদনশীল। তিনি জানেন, বিজয়ের পথ প্রশস্ত করতে হলে প্রয়োজন সংহতি ও সহমর্মিতা।
​তিনি বলেন, “মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই আমি আমার সকল সহকর্মী ও মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে যাচ্ছি। কেউ কেউ সাড়া দিয়েছেন, আবার কেউ হয়তো সময়ের অপেক্ষায় আছেন।” তবে রতন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁর এই আন্তরিক প্রচেষ্টা কখনও থেমে যাবে না। তাঁর হৃদয়ের আহ্বান—আসুন, সকল ভেদাভেদ ভুলে আমরা এক পতাকার নিচে দাঁড়াই। কারণ, এই মুহূর্তে ব্যক্তিগত চাওয়া নয়, দলের আদর্শের বিজয়ই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।
​ গণতন্ত্রের সুর: একটি পবিত্র প্রত্যাশা
​নির্বাচনকে ঘিরে তাঁর শেষ প্রত্যাশাটি ছিল অত্যন্ত সরল কিন্তু গভীর। তিনি চান, মুন্সীগঞ্জের মাটিতে যেন গণতন্ত্রের পবিত্র সুরটি বাজতে পারে।

​রতন জোর দিয়ে বলেন, “একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক—এটাই আমার হৃদয়ের জোর প্রার্থনা।” তাঁর আশা, ভোটাররা যেন নির্ভয়ে তাঁদের ভোটাধিকারের আমানত রক্ষা করতে পারেন, আর জনগণ যেন তাদের স্বাধীন মতের প্রতিফলন ঘটিয়ে তাদের কাঙ্ক্ষিত প্রতিনিধি বেছে নিতে পারে।
​কামরুজ্জামান রতনের এই বক্তব্যগুলো কেবল একটি রাজনৈতিক রিপোর্ট নয়, এটি যেন আস্থা, সততা ও ঐক্যের প্রতিচ্ছবি। মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের রাজনৈতিক আকাশের দিকে এখন সবার চোখ, যেখানে এই তরুণ নেতার অভিষেকের পালা শুরু হলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles

Back to top button