বিভেদের কাঁটা: বিএনপির ভাঙা ঘর

মুন্সীগঞ্জের আকাশে এখন শীতের নরম আলো নয়, বরং বইছে এক তীব্র রাজনৈতিক ঝড়। সদর ও গজারিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে ধানের শীষের প্রতীকের রং যেন বিবর্ণ হতে চলেছে দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের আগুনে। মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই বিএনপি এখন ‘ঘর-ভাঙা পাখির নীড়ের’ মতো— যেখানে ঐক্যের সুরের বদলে বাজছে তীব্র ক্ষোভ আর প্রতিবাদের দামামা।
রতন বনাম মহিউদ্দিন:
মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন। কিন্তু বিএনপির সদস্য সচিব মহিউদ্দিন আহমেদ-এর অনুসারীরা এই সিদ্ধান্তকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। এই ক্ষোভ কোনো মৃদু গুঞ্জন নয়; এটি এখন রাজপথের উত্তাল স্লোগানে পরিণত।
মুন্সীগঞ্জ সদর কার্যত এক আন্দোলনমুখী ক্যানভাস। প্রতিদিনের বিশাল জনস্রোত সেই আন্দোলনেরই সজীব চিত্র। কখনো মুক্তারপুরের ব্যস্ত সড়ক, কখনো মিরকাদিমের পুরোনো পথ— মহিউদ্দিন সমর্থকেরা যেন প্রতিবাদের ঝান্ডা নিয়ে নেমেছেন। তাদের চোখে-মুখে কেবল মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার হতাশা নয়, রয়েছে দলের জয়ের পথ হারানোর গভীর আশঙ্কা।
ভাঙনের সুর: বিশ্লেষকদের মত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা এই আন্দোলনকে কেবল নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখছেন না; তারা বলছেন, এটি বিএনপির ‘ঘর ভাঙনের’ প্রতিচ্ছবি। আন্দোলনকারীদের দৃঢ় ভাষ্য, মহিউদ্দিনের কোনো বিকল্প এই আসনে নেই। তাদের যুক্তি, মহিউদ্দিন আহমেদ এলাকার প্রতিটি অলিগলি চেনেন, তিনি এখানকার মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গী। তার হাত ধরেই নিশ্চিত বিজয় আসবে। তাদের কাছে, স্থানীয় শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো নেতাকে চাপিয়ে দেওয়া মানে ভোটের আগেই পরাজয় স্বীকার করে নেওয়া।
সমঝোতার অভাব: রতন ও মহিউদ্দিন—এই দুই নেতার মধ্যে সমঝোতার বিন্দুমাত্র আভাস মিলছে না। যখন নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে, তখন দুই পক্ষের এই ‘অচল অবস্থা’ স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, দলীয় প্রতীক পেলেও রতনের পথ মসৃণ হবে না। মহিউদ্দিনের অনুসারীরা যদি শেষ পর্যন্ত নীরব বা নিষ্ক্রিয় থাকেন, তবে তা জয়ের সমীকরণকে চরমভাবে কঠিন করে তুলবে।
মুন্সীগঞ্জের ভবিষ্যৎ: ট্র্যাজেডি নাকি বিজয়?
মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির জন্য এই পরিস্থিতি একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী রাজনৈতিক ট্র্যাজেডির জন্ম দিতে পারে।
যখন অন্য দলগুলো বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের দিকে নজর রাখছে, তখন বিএনপির প্রধান কাজ ছিল ইস্পাত কঠিন ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু মনোনয়ন-উত্তর এই বিস্ফোরণ সেই ঐক্যকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে।
এই মুহূর্তে, এই আসনের ভাগ্য নির্ভর করছে আবেগের উপর— মহিউদ্দিন সমর্থকদের আবেগ, যারা মনে করেন তাদের নেতাকেই বিজয় এনে দিতে হবে।






