গুয়াগাছিয়া সংকট: জাতীয় নির্বাচনে প্রভাবের সম্ভবনা

মুন্সীগঞ্জের গুয়াগাছিয়া অঞ্চলে দস্যু-সম্রাট পিয়াসের প্রকাশ্য তাণ্ডব এবং প্রশাসন কর্তৃক তাকে গ্রেপ্তার করতে না পারার ঘটনাটি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও প্রভাব ফেলতে পারে।
নির্বাচনের সময় ভোটারদের সবচেয়ে বড় চাহিদা হলো নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ। যখন ভোটাররা দেখবে যে একটি সুনির্দিষ্ট এলাকায়, এমনকি উচ্চ-পর্যায়ের প্রশাসনিক ঘোষণার পরেও, একজন চিহ্নিত অপরাধী অবাধে তাণ্ডব চালিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে, তখন তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা এবং কার্যকারিতার ওপর আস্থা হারাবে। এই অনাস্থা ভোটারদের মনে ভয় সৃষ্টি করবে এবং স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে ভোটকেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত করতে পারে। এটি পরোক্ষভাবে ভোটার উপস্থিতি এবং নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রভাবিত করবে।
আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং অপরাধীর প্রতি প্রশাসনের আপাত শৈথিল্য—এই দুটি বিষয়ই সাধারণত ক্ষমতাসীনদের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। নির্বাচনে অংশগ্রহনকারীরা অনেকেই এই ঘটনাকে ‘আইনের শাসনের অনুপস্থিতি’ এবং ‘রাজনৈতিক আশ্রয়ে অপরাধীর রাজত্ব’ হিসেবে জনসমক্ষে তুলে ধরবে এবং নির্বাচনী প্রচারে মূল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ পাবে। গুয়াগাছিয়াবাসীর কাছে এটি কেবল একটি ডাকাতির ঘটনা নয়, এটি সরকার ও প্রশাসনের ‘নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যর্থতা’ হিসেবে গণ্য হবে।
নির্বাচনে স্থানীয় প্রার্থীর জয়-পরাজয় অনেকাংশে নির্ভর করবে ঐ এলাকার শান্তি ও নিরাপত্তার ওপর। গুয়াগাছিয়া এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকার ভোটাররা নীরব ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে ভোটের সমীকরণ বদলে দিতে পারে। যে প্রার্থীর সঙ্গে পিয়াস বা তার বাহিনীর কোনো প্রকার ‘সমীহ’ বা অদৃশ্য যোগসূত্র থাকার সন্দেহ তৈরি হবে, তাকে সমর্থন করতে ভোটাররা দ্বিধা বোধ করবে। জনগণ এমন প্রার্থীকে ভোট দিতে চাইবে, যিনি এই ধরনের নৈরাজ্য বন্ধ করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করবে। স্থানীয় পর্যায়ের এই ক্ষোভ সামগ্রিক ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
পিয়াসের মতো অপ্রতিরোধ্য অপরাধী চক্রগুলো প্রায়শই নির্বাচনের দিনগুলোতে রাজনৈতিক পক্ষগুলোর ‘পেশী শক্তি’ হিসেবে কাজ করে। পিয়াসের বর্তমান স্বাধীনতা এবং তার ওপর প্রশাসনের আপাত নিয়ন্ত্রণহীনতা এই আশঙ্কাকে আরও জোরালো করে তুলেছে যে, সে নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট বাক্স ছিনতাই বা ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। এই দস্যু বাহিনীর প্রভাব খাটানোর ক্ষমতা একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে এক গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
গুয়াগাছিয়ার এই দস্যু-সম্রাটের কাহিনি একটি স্থানীয় অপরাধের চেয়েও বড় কিছু। এটি প্রমাণ করে যে, অপরাধী যদি যথেষ্ট শক্তিশালী হয়, তবে সে রাষ্ট্রের ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে এই ঘটনাটি জনগণের মনে নিরাপত্তা সংক্রান্ত গভীর উদ্বেগ তৈরি করবে এবং এটি নির্বাচনী ভাবমূর্তির ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই নৈরাজ্য বন্ধ না হলে, গুয়াগাছিয়ার এই সংকট আসন্ন নির্বাচনে একটি বড় ‘নিরাপত্তা প্রশ্ন’ হিসেবে সামনে চলে আসবে।







