মুন্সীগঞ্জ সদরকে মাথার মুকুট হিসেবে ধরে কাজ করবো – রতন

রাজনীতির মাঠে আলো-আঁধারির খেলায় যখন গুঞ্জন, ঠিক তখনই মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনয়ন লাভ করে সবার দৃষ্টি কেড়েছেন কামরুজ্জামান রতন। এটি কেবল একটি মনোনয়ন নয়, রতনের ভাষায়—এটি তাঁর সততা ও আদর্শের প্রতি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অবিচল আস্থার প্রতিচ্ছবি।
শনিবার নিজ বাসভবনের শান্ত চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই তরুণ নেতা কেবল বিজয়ের স্বপ্ন দেখালেন না, বরং মুন্সীগঞ্জ সদরকে ‘মাথার মুকুট’ হিসেবে ধরে রেখে তিন আসনের জন্য কাজ করার এক গভীর অঙ্গীকারও ব্যক্ত করলেন।
মনোনয়ন লাভের নেপথ্যের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কামরুজ্জামান রতন অত্যন্ত দৃঢ়তা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে জানান, তাঁর এই প্রাপ্তির মূলে কোনো টানা-কড়ি বা ক্ষমতার সমীকরণ ছিল না। ছিল কেবল তাঁর অমলিন সততা।
”আমার এই মনোনয়ন কোনো দেনা-পাওনার ফসল নয়। কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন বা তদবিরের বিনিময়ে আমি এই আস্থা পাইনি। আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পথচলার অটল সততা ও আদর্শের প্রতি নিষ্ঠাই এই আস্থার ভিত্তি স্থাপন করেছে।”
তিনি আবেগভরা কণ্ঠে উল্লেখ করেন, এই মনোনয়ন দলের ‘দুর্গম পথের কাণ্ডারি’ বেগম খালেদা জিয়ার এক বিশেষ আশীর্বাদ। “বহু আগেই বেগম খালেদা জিয়া মনোনয়নের তালিকায় আমার নাম লিপিবদ্ধ করতে বলেছিলেন। তাঁর সেই নিঃশর্ত ইচ্ছাই যেন আজ বাস্তবে রূপ পেল তারেক রহমানের মাধ্যমে।” তাঁর কাছে এই মনোনয়ন কেবল একটি টিকিট নয়, এটি নৈতিকতার এক অর্ঘ্য, যা শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁকে অর্পণ করেছেন।
মুন্সীগঞ্জ সদর: ‘মাথার মুকুট’
মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের উন্নয়নে তাঁর ভাবনা কী—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রতন এই অঞ্চলের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন,
”আমি এই মাটির সন্তান। আমার কাছে মুন্সীগঞ্জ সদর হলো মাথার মুকুটস্বরূপ। এই মুকুটকে মাথায় রেখেই আমি মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সকল এলাকা, সকল মানুষের জন্য কাজ করে যাবো।”
তিনি দৃঢ় অঙ্গীকার করেন যে, এই সততা ও আদর্শকে তিনি কখনও বিসর্জন দেবেন না। এই সততার আলোকেই তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকার জনগণের পাশে থেকে একটি পরিচ্ছন্ন ও গতিশীল উন্নয়নের ধারা তৈরি করতে চান।
ঐক্যের আহ্বান: ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে
মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের দলীয় বিভাজনের কঠিন ছায়া নিয়েও রতন ছিলেন অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাঁর হৃদয়ের আহ্বান—আসুন, সকল ভেদাভেদ ভুলে আমরা এক পতাকার নিচে দাঁড়াই।
তিনি বলেন, “মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই আমি আমার সকল সহকর্মী ও মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে যাচ্ছি। এই মুহূর্তে ব্যক্তিগত চাওয়া নয়, দলের আদর্শের বিজয়ই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।” তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে—এই বার্তা দিয়ে তিনি ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
গণতন্ত্রের সুর: একটি পবিত্র প্রত্যাশা
রতন তাঁর শেষ কথায় জানান, একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক—এটাই তাঁর হৃদয়ের জোর প্রার্থনা। তিনি চান, মুন্সীগঞ্জের মাটিতে যেন গণতন্ত্রের পবিত্র সুরটি বাজতে পারে, যেখানে ভোটাররা নির্ভয়ে তাঁদের ভোটাধিকারের আমানত রক্ষা করতে পারেন।






