সারা বাংলা

শিমুলিয়া ঘাটে বসতবাড়ি লড়াই

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাট সংলগ্ন রানি গাঁও মৌজার বসতভিটা–অধিকার নিয়ে উত্তেজনা যেন ক্রমেই ঘণীভূত হচ্ছে। জমি রক্ষা আন্দোলনের মধ্যে দুই স্কুলছাত্রকে মারধর ও মোবাইল ফোন জব্দ করার অভিযোগ একটি ছোট ঘটনা নয়, এটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নৃশংসতা

স্থানীয় স্কুলছাত্র মোহাম্মদ শামীম (১৪) ও নুর জালাল (১৬) অভিযোগ করেছেন যে, শিমুলিয়া ঘাটের পোর্ট অফিসার নেওয়াজ মোহাম্মদ খান ভিডিও ধারণের কারণে তাদের আটক ও মারধর করেছেন। মোবাইল ফোন জব্দ করা হলেও রাতেই তা ফেরত দেওয়া হলেও ছাত্রদের পরিবার অভিযোগ করছেন, ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলা হয়েছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে,
“ছাত্ররা আতঙ্কে রয়েছে। আমরা তাদের পাশে রয়েছি এবং প্রশাসন ও আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করব।”
উপজেলা প্রশাসনও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

প্রশাসনের তৎপরতা

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু শনিবার সকালে জরুরি ফোন যোগাযোগ করেন দুই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে। তিনি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন,
“ঘটনার সব দিক যাচাই করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জমির মালিক ও ভুক্তভোগীরা বিআইডব্লিউটিএ, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। তারা দাবি করছেন, বৈধ খাজনা ও কাগজপত্র আছে, এবং জোর করে বসতভিটা দখল করা হবে না।

জমি রক্ষার আন্দোলন ও উত্তেজনা

স্থানীয়দের অভিযোগ, নতুন টার্মিনাল চ্যানেল খননের নামে একটি চক্র ও বালু সিন্ডিকেট শতাধিক একর জমি ড্রেজার দিয়ে কাটার চেষ্টা করছে। এই জমি দীর্ঘদিন পরে চাষাবাদের উপযোগী হয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন।
উত্তেজনা ও ক্ষোভ এতটা তীব্র যে, স্থানীয়রা মানববন্ধনসহ কঠোর কর্মসূচি আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এক স্থানীয় কৃষক বলেন,
“এটা শুধু জমি রক্ষা নয়, আমাদের অধিকার ও নিরাপত্তার লড়াই। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা আরও উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

বসতভিটা, শিশু ও ন্যায়ের লড়াই

শিমুলিয়া ঘাটের এই ঘটনা কেবল জমি রক্ষার প্রশ্ন নয়; এটি শিশুর নিরাপত্তা, আইন ও ন্যায়ের প্রশ্ন। প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।
এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে—স্থানীয়রা তাদের অধিকার এবং সন্তানদের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধ। শিমুলিয়া ঘাট আজ কেবল একটি স্থানের নাম নয়, এটি ন্যায় ও সহমর্মিতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles

Back to top button