মুন্সীগঞ্জে লিজকৃত জমি দখল করে দোকান নির্মাণ

মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার আউটশাহি ইউনিয়নের চান্দের বাজারে লিজ নেওয়া সরকারি জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা এবং সেখানে অবৈধভাবে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় পারভেজ ঢালীর বিরুদ্ধে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে।
জমি ও অভিযোগের বিবরণ:
রবিবার (৭ ডিসেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর নির্মাণের জন্য কয়েকটি খুঁটি পুঁতে রাখা হয়েছে।
ভুক্তভোগী মজিবুর রহমান ঢালীর ছেলে তানজিল হাসান অভিযোগ করে জানান, তার বাবা ও চাচা ওহিদ ঢালী দীর্ঘকাল ধরে জমিটি বৈধভাবে লিজ নিয়ে আসছেন এবং নিয়মিত এর খাজনা পরিশোধ করছেন। বর্তমানে তারা দু’জনই প্রবাসে অবস্থান করায়, পাশের জমির মালিক পারভেজ ঢালী এই সুযোগে লিজকৃত জমিতে জোর করে দোকানঘর নির্মাণ শুরু করেন।
প্রশাসনের পদক্ষেপ:
ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার টঙ্গীবাড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং নির্মাণকাজ তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেয়।
অভিযুক্ত ও স্থানীয়দের বক্তব্য:
অভিযুক্ত পারভেজ ঢালী তার নির্মাণকাজের পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে দাবি করেন, “পিছনের জমি আমি ওই এলাকার বাবুল ঢালীর কাছ থেকে ক্রয় করেছি। তাছাড়াও এই লিজকৃত জমির লিজি আমার কাছে স্ট্যাম্প করে দিয়েছেন। তাই আমি এখানে নির্মাণ কাজ শুরু করি।” তিনি আরও জানান যে, প্রশাসনের নির্দেশে বর্তমানে কাজ স্থগিত রাখা হয়েছে।
স্থানীয় বাবুল ঢালী পারভেজ ঢালীর দাবির আংশিক সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আমি পারভেজ ঢালীর কাছে কিছু জমি বিক্রি করেছি। পাশাপাশি আমার মায়ের নামে লিজ নেওয়া একটি জমি আছে, সেটিও তার কাছে স্ট্যাম্প করে দিয়েছি।”
আইনি পর্যবেক্ষণ:
টংগিবাড়ি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহ আলী জানান, “কাগজপত্র যাচাই-বাছাই না করে এই বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তবে কোনো ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত না হওয়ায় প্রাথমিকভাবে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে টংগিবাড়ি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সার্ভেয়ার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে অবৈধ নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছি এবং স্থাপনের জন্য পুঁতে রাখা খুঁটিগুলো অবিলম্বে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”








