দুর্ধর্ষ বাবুর ফাঁসির দাবিতে জনরোষ

মুন্সীগঞ্জের সদরের জনপদ যেন ফুঁসে উঠেছে এক ভয়ঙ্কর অপরাধীর বিরুদ্ধে। ২১টি মাদক ও হত্যা মামলার দুর্ধর্ষ আসামি, আলোচিত শান্তি মিয়ার ছেলে বাবু মিজি (৩০)-এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে মুন্সীগঞ্জ শহর। মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় জনতা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ফটকের সামনে এক আবেগঘন মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেন। তাদের দাবি, এই ভয়ংকর অপরাধীর যেন কোনোভাবেই জামিন না হয় এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।
ক্ষিপ্ত জনতার মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান
মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার বৈখর ও পশ্চিম দেওভোগ এলাকাবাসীর ব্যানারে শতাধিক নারী-পুরুষের এক বিশাল মিছিল প্রথমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দিকে এগিয়ে আসে। তাদের চোখে ছিল দীর্ঘদিনের বঞ্চনা আর ক্ষোভের ছাপ। মানববন্ধন শেষে তারা এলাকাবাসীর সাক্ষরিত স্মারকলিপি জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার বরাবর প্রদান করেন, যেখানে বাবুর কঠোরতম শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, বাবু মিজি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে আসছিলেন। মাদক ব্যবসা, হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার নাম জড়িয়ে আছে। ন্যায়বিচার না পেয়ে সাধারণ মানুষের মনে জমে থাকা ক্ষোভ আজ এই প্রতিবাদে বিস্ফোরিত হয়েছে।
হুমকি এবং জনতার অনড় অবস্থান
প্রতিবাদ চলাকালে এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে। বাবু মিজির বড় বোন শিউলি বেগম মানববন্ধনের স্থানে এসে উপস্থিত জনতাকে প্রকাশ্যেই হুমকি দেন। তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, যারা এই প্রতিবাদে অংশ নিয়েছেন, তাদের দেখে নেওয়া হবে। এমন প্রকাশ্য হুমকি সত্ত্বেও বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের অবস্থানে অনড় থাকেন এবং বাবু মিজির পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও আইনের আওতায় আনার জোরালো দাবি তোলেন।
বক্তাদের কণ্ঠে কঠোর শাস্তির দাবি
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর বাদশা সিকদার, জেলা বিএনপি সাবেক সদস্য মো. গোলজার হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা বুলু তালুকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান গাজীর মতো গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ সর্বস্তরের মানুষ।
বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, “বাবু মিজি মাদক ও হত্যার একাধিক মামলার আসামি। দুঃখের বিষয়, বারবার গ্রেফতার হওয়ার পরেও সে জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় মাদক ব্যবসায় লিপ্ত হয়েছে। প্রশাসনের কাছে আমাদের আকুল আবেদন, যেহেতু সে গত ২ ডিসেম্বর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আটক হয়ে এখন জেল হাজতে আছে, তাকে যেন আর কোনোভাবেই জামিনে মুক্তি দেওয়া না হয়।” একই সঙ্গে তারা এলাকায় এখনও যারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
প্রসঙ্গত: গত ২ ডিসেম্বর বিকেলে হত্যা, মাদক ও অস্ত্রসহ ২১ মামলার দুর্ধর্ষ আসামি বাবু মিজিকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ আটক করে। বাবু মিজি পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের বৈখর এলাকার মৃত আফিজ উদ্দিন সরকারের ছেলে। জনতার দাবি, এই দীর্ঘ অপরাধ জীবনের যেন পূর্ণচ্ছেদ ঘটে বাবুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে।






