কোরআন পোড়ানোর অভিযোগে গনকপাড়ায় উত্তেজনা: ভাঙচুর, আটক যুবক

মুন্সীগঞ্জ শহরের গনকপাড়া এলাকায় পবিত্র কোরআন ‘অবমাননার’ অভিযোগ ঘিরে মঙ্গলবার রাতজুড়ে উত্তেজনা, ভাঙচুর এবং জনতার ক্ষোভে অস্থির হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে একদল ক্ষুব্ধ মানুষ অভিযুক্ত এক যুবকের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত যুবককে আটক করে।
ঘটনা কেন্দ্র করে পুরো এলাকা থমথমে হয়ে পড়ে—সাধারণ মানুষের চোখে ছিল বিস্ময়, ক্ষোভ ও আতঙ্কের মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই রাতভর রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন, আবার কেউ কেউ নিরাপত্তার ভয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন।
সকালের অভিযোগ, রাতের বিস্ফোরণ
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার সকালে। স্থানীয় কিছু মানুষ অভিযোগ করেন—গনকপাড়া এলাকার এক যুবক নিজের বাড়ির পাশে পবিত্র কোরআনের কিছু অংশ পুড়িয়ে দিয়েছেন। খবর ছড়িয়ে পড়তেই মুসল্লি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে যায়। সারাদিন এলাকাজুড়ে চলতে থাকে গুঞ্জন, উত্তেজনা ও অস্থিরতা। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হয়।
রাত ১১টার দিকে হঠাৎ কয়েকশ মানুষ জড়ো হয়ে অভিযুক্ত যুবকের বাড়িতে হামলা চালায়। ঘরের দরজা-জানালা ভেঙে ফেলা হয়, ভেতরের আসবাবপত্র টেনে বের করে আছাড় করা হয়। চারপাশে তখন শুধু মানুষের চিৎকার আর লাঠি-ইটের শব্দ।
এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন— “মুসল্লিরা ক্ষুব্ধ ছিল, কিন্তু রাতের ঘটনার এমন বিস্ফোরণ আশা করিনি।”
হস্তক্ষেপ পুলিশ ও সেনাবাহিনীর
হামলার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও জনতার ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট হয়নি। পরে সেনাবাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থলে আসে। দু’পক্ষের মধ্যে কয়েক মিনিটের উত্তেজনাকর অবস্থার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযুক্ত যুবককে আটক করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
যুবকের বাবাকেও সম্ভাব্য রোষানল থেকে রক্ষা করতে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে থানায় নেওয়ার সময় জনতার একাংশ বাধা দেয় এবং অভিযুক্তের ‘শাস্তির দাবি’ জানায়।
একপর্যায়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী কঠোর আইনি ব্যবস্থার আশ্বাস দিলে জনতা শান্ত হয়।
মাদকাসক্তি—ঘটনার এক ভিন্ন মাত্রা
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, অভিযুক্ত যুবক দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। তাদের ভাষায়— “ছেলেটি মুসলিম পরিবার থেকে এসেছে, কিন্তু নেশায় বুঁদ হয়ে এমন কাজ করেছে।”
তারা এটাও বলেছেন—রাতে ভাঙচুর অপ্রত্যাশিত ছিল। অনেকে মনে করছেন, অভিযোগ সত্য হলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া সমাধান নয়।
পুলিশের বক্তব্য: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, তদন্ত চলছে
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন— “পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটেছে। রাত ১২টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। অভিযুক্ত যুবককে আটক করা হয়েছে। তার বাবাকে নিরাপত্তার জন্য থানায় আনা হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাসদস্য মোতায়েন আছে।”
বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও এলাকায় উত্তেজনার রেশ কাটেনি। মানুষের চোখে এখনো উদ্বেগ—আর এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সবার প্রত্যাশা দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত।








