বাণিজ্য

রিকাবী বাজারে ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট আউটলেট: প্রান্তিক মানুষের স্বপ্নছোঁয়া এক দরজা

মুন্সীগঞ্জের ব্যস্ত রিকাবী বাজার—যেখানে প্রতিদিন ভোরের আলো ফুটতেই খোলা হয় দোকানের শাটার, শুরু হয় মানুষের দৌড়ঝাঁপ। ব্যবসা-বাণিজ্যের সেই প্রাণকেন্দ্রে সম্প্রতি যুক্ত হলো নতুন এক আর্থিক সম্ভাবনার দরজা—ব্যাংক এশিয়া পিএলসি’র এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট। আব্দুল আজিজ প্লাজার দ্বিতীয় তলায় স্থাপিত নবঘোষিত এই আউটলেটটিকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে জন্ম নিয়েছে এক নতুন উত্তেজনা, এক নতুন প্রত্যাশা।
উদ্বোধনী দিনের দুপুর যেন রিকাবী বাজারের জন্য ছিল উৎসবমুখর। চারদিকে ব্যানার, মানুষের আনাগোনা, আর সহজ-স্বাভাবিক পরিবেশের মাঝে একটি ভিন্ন রকমের শান্তিমাখা উচ্ছ্বাস। কারণ এ আউটলেটটি শুধু ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান নয়—এটি বহু মানুষের বহুদিনের প্রতীক্ষিত আর্থিক অন্তর্ভুক্তির পথ।

অতিথিদের উপস্থিতি—দৈনন্দিন বাজারে এক ব্যতিক্রমী দিন

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. সিরাজুল ইসলাম, ইভিপি ও হেড অব অ্যাসেট, মাইক্রো, মার্চেন্ট অ্যান্ড পার্টনারশিপ ব্যাংকিং। তার সঙ্গে ছিলেন ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা—কাজী মোর্তজা আলী, মো. আলী আব্বাস, নাজমুল ইসলাম, শান্তি গোপাল পোদ্দার, সঞ্জয় তালুকদার—এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এক মুহূর্তের জন্য মনে হচ্ছিল, রিকাবী বাজার আর শুধু কেনাবেচার স্থান নয়—এটি যেন হয়ে উঠেছে উন্নয়ন পরিকল্পনার এক আধুনিক মঞ্চ।

ফিতা কাটার মুহূর্তে উপস্থিত মানুষের চোখে ছিল ঠিক সেই আলো—যে আলো জন্মায় নতুন সুবিধা, নতুন সুযোগ, নতুন পথচলার আশায়।

প্রান্তিক মানুষের কাছে ব্যাংকিং—এক নতুন সকাল

বক্তারা উল্লেখ করেন, ব্যাংক এশিয়া বহু বছর ধরেই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রযুক্তি-নির্ভর ব্যাংকিং পৌঁছে দিতে কাজ করছে। বৃহৎ ব্যাংকিং হলের ভিড় বা দূরত্ব আর প্রতিরোধ হবে না—এজেন্ট আউটলেট পৌঁছে দেবে ঘরের পাশেই সব সেবা।
যে রিকাবী বাজারকে অনেকে ডাকেন “ব্যবসার তীর্থস্থান”, সেখানে এই আউটলেট চালু হওয়া নিঃসন্দেহে আর্থিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আনবে। জমা, উত্তোলন, রেমিট্যান্স, অ্যাকাউন্ট খোলা, ক্ষুদ্রঋণ, বিল পরিশোধ—সবই মিলবে এক ছাদের নিচে।
একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলছিলেন, “এখন আমাদের আর শহরে দৌড়াতে হবে না। সময় বাঁচবে, খরচ কমবে, কাজও দ্রুত হবে।”
এ কথায় ফুটে ওঠে ব্যাংকিং সুবিধা কীভাবে একটি জনপদের দিনযাত্রা বদলে দিতে পারে।

উন্নয়ন, প্রযুক্তি ও ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’—একই স্রোতের তিন সুর

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বক্তারা বলেন—স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের ক্ষেত্রে প্রান্তিক মানুষের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিই হবে সবচেয়ে বড় শক্তি। প্রযুক্তিনির্ভর, নিরাপদ ও গ্রাহকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করা শুধু ব্যাংকের দায়িত্ব নয়—এটি একটি সামাজিক অঙ্গীকার।
এই আউটলেট সেই অঙ্গীকারেরই বহিঃপ্রকাশ। ভবিষ্যতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ ঋণপণ্য, ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা এবং আরও বিস্তৃত আর্থিক সুবিধার পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়।
রিকাবী বাজারের প্রবেশমুখে দাঁড়িয়ে তখন মনে হচ্ছিল—ঠিক এইভাবেই শুরু হয় পরিবর্তন। ছোট একটি কক্ষ, একটি ডিজিটাল ডেস্ক, আর মানুষের হাতে নতুন আস্থা।

শেষে মিলাদ, প্রার্থনা ও আশার আলো

অনুষ্ঠানের শেষভাগে মিলাদ ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন হয়। প্রার্থনায় উঠে আসে সকলের সুস্বাস্থ্য, সমৃদ্ধি এবং রিকাবী বাজার—এবং সমগ্র মুন্সিগঞ্জ অঞ্চলের—অর্থনৈতিক উন্নতির প্রত্যাশা।
একটি সাধারণ ফিতা কাটার মধ্য দিয়ে সূচিত হলো অসংখ্য মানুষের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা। রিকাবীর বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছিল যেন একটাই ভাষ্য— “উন্নয়নের দরজা খুলেছে, এখন পথ চলার পালা।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button