সারা বাংলা

মানবতার আলোতে মুন্সীগঞ্জ

শনিবার মুন্সীগঞ্জ শহরের মুন্সীরহাট আল-আমিন কমিউনিটি সেন্টার যেন মানবিকতার এক উজ্জ্বল কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। দিনব্যাপী আয়োজিত বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্পিং ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান কেবল স্বাস্থ্যসেবা বা শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ নয়, এটি ছিল মানবিক সহমর্মিতার এক জাগ্রত উদাহরণ।
এই আয়োজনটি সম্পন্ন করেছে জনশক্তি উন্নয়ন সংস্থা সিরাজদিখান ব্লাড ব্যাংক এবং ডায়াবেটিস হাসপাতালের সহযোগিতায়। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবে আহত যোদ্ধা, চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত মানুষ এবং অটিজম শিশুদের জন্য এটি ছিল এক অনন্য সহায়ক উদ্যোগ।
প্রধান অতিথি ও স্বীকৃতি
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাড. মুজিবুর রহমান, যিনি তাঁর বক্তৃতায় আহত যোদ্ধাদের ত্যাগ ও সাহসকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সরকারি হরগঙ্গা কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মুন্সি সিরাজুল হক, মো. মহিউদ্দিন আহমেদ, মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, এবং মো. আয়নাল হক স্বপন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জনশক্তি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ফারজানা আক্তার এবং ক্যাম্প পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্তরা—ইঞ্জিনিয়ার ইব্রাহিম খান জীবন, জান্নাতুন জুথি, সুমাইয়া দেওয়ান, জুয়েল শেখ, রাউফুন মীম, আজিজুল হক প্রমুখ।
মানবিক সেবা ও কার্যক্রম
সকাল থেকেই প্রাঙ্গণে মানুষ ভিড় করতে থাকে। প্রায় ৫০০ জন মানুষ বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করেন। আহত যোদ্ধাদের প্রতি বিশেষ সম্মান জানানো হয়। তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে, তাদের ত্যাগের গল্প শোনানো এবং সম্মানসূচক পুরস্কার প্রদান করা হয়।
অটিজম শিশুদের জন্য ছিল বিশেষ কাউন্সেলিং ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম। শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হয় শিক্ষাসামগ্রী, খেলনা এবং মানসিক উৎসাহব্যঞ্জক পুরস্কার। এই কার্যক্রম কেবল শিক্ষামূলক নয়, বরং শিশুদের আত্মবিশ্বাস এবং সামাজিক দক্ষতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক।

চিকিৎসা সেবা ছাড়াও, মানসিক সাপোর্ট ও পরামর্শ কার্যক্রম চলেছে—যাতে প্রতিটি অংশগ্রহণকারী ব্যক্তি নিজেকে মূল্যবান এবং নিরাপদ মনে করতে পারে।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ও সমাজকর্মীরা বলেন,
“এ ধরনের উদ্যোগ মানবিক মূল্যবোধ ও সহমর্মিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আহত যোদ্ধা ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পাশে দাঁড়িয়ে সমাজ আরও মানবিক হয়ে উঠবে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরাও প্রশংসা করেন, noting যে, এমন আয়োজন কেবল চিকিৎসা বা পুরস্কারের বিষয় নয়—এটি সমাজে এক নতুন মানবিক প্রেরণার সঞ্চার।

ভবিষ্যৎ লক্ষ্য

উক্ত ক্যাম্পের আয়োজনকারীরা ঘোষণা করেছেন, এই ধরনের মানবিক সেবা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। বক্তারা বলেন,

“মানবতার সেবাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আহত যোদ্ধা ও অটিজম শিশুদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব এবং এটি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

মুন্সীগঞ্জের এই উদ্যোগ কেবল স্থানীয় নয়—এটি পুরো দেশের জন্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়াবে, যেখানে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষামূলক সহায়তা এবং মানসিক সহমর্মিতা এক সঙ্গে মিলিত হয়।
উপসংহার: শনিবারের এই দিনটি শুধু মেডিকেল ক্যাম্পিং নয়, এটি মানবিকতার এক উজ্জ্বল পরিমিতি। আহত যোদ্ধা, অটিজম শিশু এবং সাধারণ মানুষ—সবাই যেন অনুভব করেছে, তারা সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। মুন্সীগঞ্জের এই মানবিক উদ্যম আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে সেবার মাধ্যমে মানুষকে শক্তিশালী করা সম্ভব, আর সেই শক্তিই প্রকৃত সমাজের উন্নয়নের ভিত্তি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles

Back to top button