নদীর স্রোতে ভাসে অন্ধকার

রাতের নদী সবসময়ই গল্প বলে—তবে মানুষ শোনে না। কাজলা আর মেঘনার স্রোতও সেই গল্পই বলছিল কয়েক রাত ধরে, কিন্তু কেউ বোঝেনি। বিন্দুবিন্দু ঢেউ যেন অদৃশ্য কোনো কান্না বহন করছিল। আর সেই কান্নাই শনিবার দুপুরে উন্মোচন করল এক ভয়ংকর সত্য—দু’টি নদী দু’দুটি মরদেহ তুলে দিল মানুষের সামনে।
কাজলা নদীর বাঁকে যে জায়গায় পুরুষটির মরদেহ মিলেছে, সেটি দিনের আলোয় যতটা শান্ত দেখায়, রাতের অন্ধকারে তার চেহারা একেবারে বদলে যায়। সেই স্থানে দাঁড়ালে মনে হয় স্রোতটা যেন নিজের ভেতর কিছু লুকিয়ে রেখেছে—যেন প্রশ্ন করছে, “আমি কি সব দেখিনি?”
লাশটির দুই পা রশি দিয়ে বাঁধা। রশিটি ছিল ভেজা, কিন্তু তার গিটের টান ছিল শক্ত—স্পষ্ট বোঝা যায়, যে এটি বেঁধেছিল, সে জানত কিভাবে নদীকে ব্যবহার করতে হয়। নদীর স্রোতকে সঙ্গী করা অপরাধীর হাতচিহ্ন যেন জলের ভেতরও অনুভব করা যায়।
অন্যদিকে মেঘনার বুক থেকে ভেসে ওঠা নারীর অর্ধগলিত দেহ যেন আরও গভীর রহস্য বয়ে আনল। তার মুখমণ্ডলের অর্ধেক নদীর কাদা ঢেকে রেখেছে, বাকি অর্ধেক রোদে পুড়ে গাঢ় হয়ে গেছে। যেন নদী নিজেও তাকে আর চেনে না। স্থানীয় জেলেরা বলে, দুই রাত আগে কি ঝড় উঠেছিল? সেই রাতে নদী কি ছিল অস্থির?—স্রোত যেন রাগে ফুঁসছিল। হয়তো সেই রাতেই কোনো অচেনা ট্রলারের বুক থেকে কেউ ফেলে কি ফেলে দিয়েছিল এই দেহটিকে।
হাওয়া বইলে এখনো নদীর ওপর এক ধরনের কাঁপুনি দেখা যায়, আর মানুষ বলে— “নদী নাকি সব সত্য নিজের কাছে রেখে দেয়; কেবল সময় হলে তা ওপরে তোলে।”
রাতের নদী সবসময়ই গল্প বলে—তবে মানুষ শোনে না। কাজলা আর মেঘনার স্রোতও সেই গল্পই বলছিল কয়েক রাত ধরে, কিন্তু কেউ বোঝেনি। বিন্দুবিন্দু ঢেউ যেন অদৃশ্য কোনো কান্না বহন করছিল। আর সেই কান্নাই শনিবার দুপুরে উন্মোচন করল এক ভয়ংকর সত্য—দু’টি নদী দু’দুটি মরদেহ তুলে দিল মানুষের সামনে।
কাজলা নদীর বাঁকে যে জায়গায় পুরুষটির মরদেহ মিলেছে, সেটি দিনের আলোয় যতটা শান্ত দেখায়, রাতের অন্ধকারে তার চেহারা একেবারে বদলে যায়। সেই স্থানে দাঁড়ালে মনে হয় স্রোতটা যেন নিজের ভেতর কিছু লুকিয়ে রেখেছে—যেন প্রশ্ন করছে, “আমি কি সব দেখিনি?”
লাশটির দুই পা রশি দিয়ে বাঁধা। রশিটি ছিল ভেজা, কিন্তু তার গিটের টান ছিল শক্ত—স্পষ্ট বোঝা যায়, যে এটি বেঁধেছিল, সে জানত কিভাবে নদীকে ব্যবহার করতে হয়। নদীর স্রোতকে সঙ্গী করা অপরাধীর হাতচিহ্ন যেন জলের ভেতরও অনুভব করা যায়।
অন্যদিকে মেঘনার বুক থেকে ভেসে ওঠা নারীর অর্ধগলিত দেহ যেন আরও গভীর রহস্য বয়ে আনল। তার মুখমণ্ডলের অর্ধেক নদীর কাদা ঢেকে রেখেছে, বাকি অর্ধেক রোদে পুড়ে গাঢ় হয়ে গেছে। যেন নদী নিজেও তাকে আর চেনে না। স্থানীয় জেলেরা বলে, দুই রাত আগে কি ঝড় উঠেছিল? সেই রাতে নদী কি ছিল অস্থির?—স্রোত যেন রাগে ফুঁসছিল। হয়তো সেই রাতেই কোনো অচেনা ট্রলারের বুক থেকে কেউ ফেলে কি ফেলে দিয়েছিল এই দেহটিকে।
হাওয়া বইলে এখনো নদীর ওপর এক ধরনের কাঁপুনি দেখা যায়, আর মানুষ বলে— “নদী নাকি সব সত্য নিজের কাছে রেখে দেয়; কেবল সময় হলে তা ওপরে তোলে।”



